April 19, 2026, 6:42 pm

আড়াইহাজারে বৃদ্ধা শারুনী বেগম হত্যার আসামি ০৩ দিনের মধ্যে গ্রেফতার

গত ২৬/০৯/২০২৫ শুক্রবার বিকাল ৪:০০ ঘটিকার সময় আড়াইহাজার থানাধীন দুপ্তারা ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর টেক্সটাইল এর শ্রমিকদের থাকার একতলা বিল্ডিং এর ছাদে খাবারের মেস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শারুনী বেগম (৭৫), স্বামী-মৃত মোক্তার হোসেন, পিতা- মৃত মোহাম্মদ আলী, মাতা-মৃত ছনিয়া বেগম, সাং-তিনগাঁও, ইউপি-দুপ্তারা, থানা-আড়াইহাজার, জেলা-নারানায়ণগঞ্জ এর গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন
। আড়াইহাজার থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে লাশ মর্গে প্রেরণ করে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি বটি উদ্ধার করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, আসামী সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে মোঃ মেহেদী ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার ‘গ’ সার্কেল, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এর নেতৃত্বে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার নাসির উদ্দিন এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সাইফ ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি টিম কাজ শুরু করেন।
তথ্য প্রযুক্তি ও ঘটনার আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সহিত জড়িত আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শাওন (১৬), পিতা- আবুল কালাম, সাং- পানান, ইউপি- জাইট্যা, থানা-ঈশ্বরগঞ্জকে আজ ২৯/০৯/২৫ সোমবার সকাল ১১.১০ ঘটিকায় দুপ্তারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শাওনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অনুমান ২০/২৫ দিন পূর্বে সে ডিসিস্ট শারুনী বেগম এর মেসে টাকা চুরি করার জন্য যায়। উক্ত সময় ডিসিস্ট শারুনী বেগম, শাওনকে হাতে নাতে ধরে মার দেয়। এতে শাওন মনে মনে বৃদ্ধা শারুনী বেগমের প্রতি মনক্ষুন্ন হয় । অতঃপর গত ২৬/০৯/২০২৫ খ্রি. দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় মেসের বিল্ডিং এর পিছন দিয়ে বিল্ডিং-এ টাকা চুরি করার জন্য শাওন উঠে আত্মগোপন করে থাকে । ঐদিন দুপুর অনুমান ৩:৪০ ঘটিকার সময় বৃদ্ধা শারুনী বেগম ছাদে উঠলে আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু শাওন (১৬) শারুনী বেগমকে পিছন থেকে ঝাপটিয়ে ধরে ছাদের ফ্লোরে ফেলে নাক-মুখ চেপে ধরে। বৃদ্ধা অচেতন হয়ে পড়লে মেসের রান্না ঘর থেকে বটি এনে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাওন (১৬) ডিসিস্ট শারুনী বেগমকে গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করে। আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুকে অদ্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা